মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র! পৌরসভার ময়লা পরিষ্কার করে সংসার চালান বিধবা তাহমিনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পন্ন ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নারীর অংশ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি আসামির
সড়কের ওপরই বসে ১৩ বাজার, এক ঘণ্টার পথ যেতে লাগে তিন ঘণ্টা

সড়কের ওপরই বসে ১৩ বাজার, এক ঘণ্টার পথ যেতে লাগে তিন ঘণ্টা

সড়কের ওপরই বসে ১৩ বাজার, এক ঘণ্টার পথ যেতে লাগে তিন ঘণ্টা
সড়কের ওপরই বসে ১৩ বাজার, এক ঘণ্টার পথ যেতে লাগে তিন ঘণ্টা

অনুসন্ধান২৪>>চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী অংশের ১৬ কিলোমিটারে এই ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের। সড়কের এই অংশে ভাসমান বাজার রয়েছে অন্তত ১৩টি। প্রতিদিনই এসব বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকে।

হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরীহাটে সড়কের ওপর বসেছে বাজার।

সড়কের একাংশে বসে বাজার। কেউ বিক্রি করছেন বিভিন্ন পদের সবজি আবার কেউ মাছ-মাংসসহ নানা পদ। ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন সড়কে দাঁড়িয়েই। এ কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী অংশের ১৬ কিলোমিটারে এই ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের। সড়কের এই অংশে ভাসমান বাজার রয়েছে অন্তত ১৩টি। প্রতিদিনই এসব বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। এর বাইরে অতিরিক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, মাহিন্দ্র এসবের চাপে জট লেগে থাকে সড়কের পুরো অংশে। ফলে এক ঘণ্টার পথ যেতে এখন লাগছে প্রায় তিন ঘণ্টা।

সরেজমিন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের চৌধুরীহাট বাজারেই সবচেয়ে বেশি যানজট থাকে। বিকেল থেকেই এ জট তীব্র হতে থাকে। আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা সড়কের পাশের বাজার থেকেই কেনাকাটা করেন। এর বাইরেও সড়কের মদনহাট, ইসলামীয়া হাট, নন্দিরহাট, বড় দিঘিরপাড়, লালিয়ারহাট, আমান বাজার, বালুচরা, বটতলী, অক্সিজেন এসব এলাকায়ও বাজার বসে। এসব বাজারে হাটহাজারী, রাউজান, মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারীসহ নানা জায়গা থেকে লোকজন কেনাকাটা করতে আসেন। তাঁদের যেখানে–সেখানে ওঠানামা ও যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে যানজট বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। তাঁদের রাস্তায় বাজার বসাতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাটহাজারী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড খালি করা হয়েছে। বাজার না সরালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

—শেখ মো. সেলিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), চট্টগ্রাম

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্নবীকরণের চাহিদা প্রতিবেদন, ২০২৩-২৪’ অনুযায়ী সড়কটি দিয়ে দৈনিক ৫ হাজার ৯২৫টি গাড়ি চলাচল করে। এত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে মাত্র পাঁচজন। চৌধুরীহাট বাজার এলাকায় কথা হয় ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মোহাম্মদ মানিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারের সময় হাজারের বেশি সিএনজিচালক যাত্রী ওঠানামা করেন। এ কারণে অনেক সময় দুই ঘণ্টার বেশি যানজট দেখা দেয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। তাঁদের রাস্তায় বাজার বসাতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাটহাজারী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড খালি করা হয়েছে। বাজার না সরালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ২৮ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম নগর থেকে ক্যাম্পাসে যান। তাঁদের বড় একটি অংশ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এর বাইরে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রায় ৩৪টি বাস এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। যানজটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও নানা সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাপ্তাহিক বাজারের দিনগুলোতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভিড় বাড়ে। সপ্তাহে প্রতিদিন লালিয়ারহাট ও আমানবাজার, বুধবার মদনহাট বাজার, শনি ও মঙ্গলবার নন্দিরহাট, চৌধুরীহাট, বালুচরা, বাজারেই যানজট বেশি থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাপ্তাহিক বাজারের দিনগুলোতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভিড় বাড়ে। সপ্তাহে প্রতিদিন লালিয়ারহাট ও আমানবাজার, বুধবার মদনহাট বাজার, শনি ও মঙ্গলবার নন্দিরহাট, চৌধুরীহাট, বালুচরা, বাজারেই যানজট বেশি থাকে।

বাজারগুলোর বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও এসব হাট সড়কে বসত না। তবে এখন অফিস ও দালান নির্মাণের কারণে এসব অংশে ক্রেতা বেড়েছে। বিক্রেতারাও মূল বাজার পেরিয়ে সড়কে নেমেছেন। মদনহাট বাজারের দোকানি অজিত নাথ বলেন, আগে এত দোকানপাট ছিল না। এখন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাজার করতে আসার কারণে বিক্রেতার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

ওই সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রচালকেরা জানান, বাজারের দিনগুলোতে হাজারের বেশি যানবাহন একসঙ্গে সড়কে চলাচল করে। অপরিকল্পিত ডিভাইডার, ট্রাফিক সংকেতের অভাব ও বাসের অনিয়মিত পার্কিংয়ের কারণে মূলত চাপ বাড়ে।

বড় দিঘিরপাড় এলাকার সিএনজিচালক মোহাম্মদ রায়হান বলেন, বাজারের দিনে পাশের এলাকা থেকে অনেক যান আসে। এ ছাড়া লোকাল বাসও যেখানে–সেখানে যাত্রী ওঠানামা করায়। এর বাইরে পাম্প থেকে অটোরিকশার গ্যাস নেওয়া তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে যানজট তৈরি হয়।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘বেশির ভাগ বাজার অপরিকল্পিত। আমরা বাজার সমিতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিছু জায়গায় চার রাস্তার মাথা হওয়ার কারণে যানজট হয়। আমরা অভিযান চালিয়ে এগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করছি।’

আরো পড়ুন

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯